মঙ্গলবার, ২ অক্টোবর, ২০১২

সভাপতি

২০১০ সালের কথা। ঠিক মনে নাই তবে বিল্ডিং ফর ফিউচারে জয়েন করার পর থেকেই আবার নিয়মিত নামজ পড়া শুরু করলাম। এর আগে আব্বু মারা যাবার পর ১৯৯৯ সালে নিয়মিত নামায পড়েছিলাম তা বেশীদিন টিকে থাকে নি। এরপর ২০০১ সালে এস.এস.সি তে মোটামুটি ফলাফলের পরেও যখন বাংলাদেশের এক নম্বর কলেজ “নটরডেম কলেজ” এ চান্স পেলাম তখন থেকে ঠিকঠাক মত নামায পড়া শুরু করলাম। কতদিন যেন টানা ফজরের নামায জামাতে পড়েছি তা মনে নেই তবে এটুকু মনে আছে এইচ.এস.সি পরীক্ষা চলাকালীন সময়েও সারা রাত বই নিয়ে বসে থেকে ফজরের সময় গিয়েছি মসজিদে জামাতে নামায পড়তে। সত্যি বড় ভালো ছেলে ছিলাম যার প্রতিদান আল্লাহ্‌ আবার ও দিয়েছেন। বাংলাদেশের একনম্বর বিশ্ববিদ্যালয় তথা উপ-মহাদেশের অন্যতম স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটে চান্স পেয়ে। এখানে চান্স পেয়ে আমি এতটাই আত্নহারা হয়ে গেলাম যে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়তে ভুলে গেলাম। যার শাস্তি আমি অবশ্য পেয়েছি। শুধু মাত্র জুম্মার নামায, শব-ই-বরাত, শব-ই-ক্বদর এবং ঈদের নামায ছাড়া ওয়াক্তের নামায পড়তাম ই না।

যাই হোক বিভিন্ন স্থানে চাকুরী করতে করতে ২০১০ সালের শুরুর দিকে বিল্ডিং ফর ফিউচারে আমি জয়েন করলাম। এমনিতেই বিভিন্ন কারণে মন খুব একটা ভালো থাকতো না। ঠিক কেউ একজন আমাকে পরামর্শ দিলেন যে নামায পড় নিয়মিত, মন তো স্থির হবেই সাথে সমাধান হবে সমস্যার হবে মনের আশা পূরণ। যাই হোক এই করতে করতে রোজার মাসের ঠিক আগে আগে আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করলাম। তারিখ টা ঠিক মনে নাই তবে জুন/জুলাই (২০১০) হবে। তো আমাদের অফিসটা (বিল্ডিং ফর ফিউচার) প্রায় ২০,০০০ (বিশ হাজার) বর্গফুট যেখানে অন্যান্য সকল সুযোগ সুবিধার সাথে সাথে নামায পড়ার জন্য আলাদা প্রায় ৩০০ বর্গফুট জায়গা আছে যেখানে একসাথে ওজুখানা আছে এবং ঐ ওজুখানাতে একসাথে ৩ জন ওজু করার ব্যবস্থা আছে। প্রথম প্রথম আমি জানতামই না যে আমাদের অফিসে এমন ব্যবস্থা আছে, তাই আমি অফিসের কাছাকাছি মসজিদে ওয়াক্তের নামায পড়া শুরু করলাম কিন্তু যখন জানলাম যে আমাদের নির্বিঘ্নে নামায পড়ার জন্য অফিস ম্যনেজমেন্ট এইরকম নামায পড়ার জায়গা (Prayer Hall) রেখেছেন তখন দেখে খুবই ভালো লাগল আর তারপর থেকে এই নামাযের স্থানেই আমি নিয়মিত নামায পড়া শুরু করলাম। ধীরে ধীরে আমি বুঝতে পারলাম আসলে এতদিন আমি অন্ধকারচ্ছন্ন ছিলাম। আমার ভুল গুলো কাটতে লাগলো। আমি চিন্তা করলাম সামান্য ৫০/৬০ বছরের পার্থিব জিন্দেগীর জন্য আমরা এত খাটাখাটি কষ্ট করি আর যে জীবনের শুধু শুরু আছে কিন্তু কোনও অন্ত নাই সেই জীবনের জন্য আমরা কি করতেছি। কোন মুখে আল্লাহর কাছে বেহেশতে যাবার দাবী করব। তাই শপথ নিলাম আর যাই করি নামায কখনই বাদ দিব না। প্রাত্যাহিক রুটিনে অন্যান্য পার্থিব কাজের সাথে নামায কেও অন্তর্ভুক্ত করব।

কিছুদিন পর আরও উপলব্ধি করতে পারলাম যে, আমরা একা একা নামায পড়ছি অথচ কয়েকজন একসাথে জামাতে নামায পড়লে ২৭ গুণ সওয়াব পাওয়া যেত। কিন্তু আবারো মনে প্রশ্ন জাগলো যেন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যেন বাইরে যেয়ে নামায না পড়তে হয় তার জন্যই তো অফিস এই নামাযের জায়গাটা রেখেছে আর যেহেতু অফিস এক কর্ম সময় তো সে সময় মসজিদের যাবার মত সময় বোধ করি বেশিরভাগ দিনই থাকবে না। তো যা করার অফিসের নামাযের স্থানেই করতে হবে। তো আমি একদিন জোহরের নামায পড়তে এসে অপেক্ষা করতে লাগলাম এবং দেখতে লাগলাম ঠিক কতজনের মত এই নামাজে স্থানে (Prayer Hall)নামায পড়তে আসে। আমি অবাক হয়ে গেলাম ২০/২৫ জনের মত নামায পড়ল কিন্তু কেউই জামাতে নয় একা একা পড়ে গেল। আমি ভাবলাম কি করা যায়? আমি আছরের নামাজের সময় কয়েকজন কে ব্যপারটা বললাম। তারা আমার সাথে সহমত পোষণ করলেন কিন্তু একই সাথে বললেন অফিসে আপনি সবাইকে একই সময় পাবেন না। তাই যারা যারা পারবে তারা একটা নির্ধারিত সময় এসে জামাতে নামায পড়ে যাবে। পরেরদিন জোহরের নামাজে আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম কিন্তু দেখলাম কারোর সাথে কারোর সময় মিলে কিনা কিন্তু খুব একটা মিল পেলাম না। দেখলাম আরও বিশৃঙ্খলার মত অবস্থা ... কেউ কেউ জামাতে যেন না পড়তে হয় তার জন্য আরও পরে আসা শুরু করলেন। বিষয়টা নিয়ে আমি আর আমার এক কলিগ রিংকু ভাই ভাবতে লাগলাম। পরেরদিন আমি কয়েকজনের সাথে কথা বললাম যে জোহরের নামাযটা আমরা কয়টা জামাত পড়ব। কেউ বললেন দুপুর ১:৩০ আবার কেউ বললেন দুপুর ১:৪৫ মিনিটে। প্রথমতঃ আমরা ১:৪৫ মিনিটেই রাখলাম। এই সময়টা রাখার পিছনে যুক্তি ছিল এই যে, অনেকেই খেয়ে নামায পড়তে আসেন তাই এই সময়টা ভালো, আরেকজন বললেন কাজ সারতে সারতেই তো দেড়টা বেজে যায় তাই এইটাই ঠিক আছে। তো ১:৪৫ মিনিটে যারা বলছিলেন তাদের বেশিরভাগ জনকেই আমরা পাই নাই। আমি আবার চিন্তিত হয়ে পড়লাম। যাদের কথা শুনে আমরা জামাত ১:৪৫ মিনিটে করলাম তারা কেউই ঠিক মত আসছেনা বা আসলেও হয় আগে বা পরে আসছেন। আমি জানি না কেন তারা ঠিক সময় আসছেন না। মানুষের মন তো নেগেটিভ চিন্তাই বেশী করে হয়তো সব মানুষ করে না কিন্তু আমিই করে থাকি। হয় জামাতে নামায পড়তে বেশী সময় লাগে এজন্য তারা জামাতের সময় আসেন না অথবা, জামাতে নামায পড়ানোর মত কামেল লোক অফিসে নেই তাই নিজে নিজে পড়ে নেওয়া উচিত এই ভেবে বা অন্য কিছু।

পরের দিন আমি আরও কয়েকজনের সাথে আলোচনা করে ঠিক করলাম যে ১:৩০ মিনিটেই জামাত পড়া হোক। কারণ প্রথমতঃ লাঞ্চ ব্রেক হতে হতে ১:১০ বেজে যায়, অনেক সময় বাইরে গেলে আসতে আসতে ১:১০ টা বেজে যায়, দ্বিতীয়তঃ বেশির ভাগ লোকজনই ফজরের নামায পড়তে পারেন না, মিস করেন তাই জোহরের নামাযের জামাতের আগে ফজরের ২ রাকাত ক্বাজা নামায এবং জোহরের ৪ রাকাত সুন্নাত নামায পড়ে নেন, তৃতীয়তঃ জোহরের নামাযের সময় বেশী সময় পাওয়া যায় তাই মাঝা-মাঝি জামাত পড়ে নেওয়া অথবা, লাঞ্চ ব্রেকের সাথে সাথে যেহেতু অফিসের ডাইনিং এ খাবার তৈরি হয় না তাই এই সময়টায় নামায পড়ে নিলে জামাতটা যেমন নির্বিঘ্নে পড়া যাবে তেমনি, নীচে ডাইনিং এর জন্য এক ধরনের অপেক্ষাও করা হলো। আমি পরবর্তীতে দায়িত্ব নিলাম যারা জানেন না তাদেরকে জানানো যে, অফিসে জোহরেরে নামায ১:৩০ মিনিটে। আমি সরাসরি কয়েকজনের টেবিলে চলে যাই এবং বলি যোহরের জামাত ১:৩০ মিনিটে। আমি পরবর্তীতে আমাদের স্টাফ দ্বারা দুটি কাগজ নামাযের স্থানে এর দেওয়ালে সাঁটিয়ে দেই, যেখানে “যোহরের নামাযের জামাত ১:৩০ মিনিটে” এবং “আছরের নামায ৫:০০ টায়” এবং দুই কাগজে একটা কমন লেখা ছিল, “নামাযের পূর্বে আপনার মোবাইল ফোন টি বন্ধ রাখুন”। আবারো  তেমন একটা লোক হল না। আমি একটু চিন্তায় পড়ে গেলাম এই ভেবে কেন লোক হচ্ছেনা। আমি আবারো কয়েকজনের সাথে আলোচনায় বসলাম এবং তারা মতামত দিলেন যে ১:৩০ মিনিটেই ঠিক আছে। যে আসল তো জামাত পেল আর যে আসলো না তো জামাত পেল না। আমি মনে মনে খুশি হলাম না। যাই হোক অফিসে যে জামাতে নামায পড়াটা চালু হয়েছে এটাই বা কম কি??ঠিক করা হয় সারা বছর ১:৩০ মিনিটে যোহরের নামায পড়া হবে শুধু মাত্র রোজার মাসে ১:১৫ মিনিটে যোহরের নামায পড়া হবে।

বেশ কিছুদিন এভাবে চলতে লাগল, যারা আমাদের অফিসের নামাযের স্থানে নামায পড়তে আসে এবং জামাতে নামায না পড়েই শেষে চলে যায় তাদের কে আলাদা করে বলতে লাগলাম। তারিখটা মনে নেই সম্ভবতঃ নভেম্বর, ২০১০। যাই হোক মসজিদে আসরের নামাযের জামাতের সময়টা স্বাভাবিক সময়ের সাথে আমরা পরিবর্তন করি। আর আমি বলে দেই যখন আমরা আসরের নামাযের জামাতের সংখ্যা পরিবর্তন করব তখনই তার পরেরদিন যোহরের নামাযের সময় ও যেন উচ্চস্বরে বলে দেওয়া হয় যে আসরের নামাযের সময় এতটায়।

ডিসেম্বর শেষদিকে মসজিদের ভালো মন্দ দেখার দায়িত্ব আমি নিজে থেকেই নেই। এই যেমন নামাযের ওয়াক্ত নিয়মিত পরিবর্তন করে কাগজে উল্লেখ করে লাগানো, মসজিদের ওয়াক্তের ঘড়ি পরিবর্তন করা, বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের লোকজনকে জামাতের নামায পড়ার জন্য দাওয়াত, দিতে থাকি। সেইবার জানুয়ারি মাস, ২০১১ তে আরো কিছু কলিগ বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে জয়েন করছিলেন এবং এখানেও আমরা কিছু নামাজী পেয়ে যাই। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারী / মার্চের কথা, কয়েকজন বলে উঠল যেখানে নিয়মিত নামায হয় সেখানে আজান দেওয়া উচিত তাতে সওয়াব বেশী হয়। কয়েকজন বলে উঠল আমাদের এই নামাযের স্থান ছোট হলেও এখানে দেখাশুনা/ ভাল মন্দে জন্য একটা কমিটি থাকা দরকার। আমি বললাম এখানে আবার কমিটির কি দরকার। কয়েকজন বলল দরকার আছে। পরেরদিন আমি শুনতে পেলাম কয়েকজন মিলে কমিটি গঠন করেছেন যেখানে মসজিদের সভাপতি আমার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে, সহ সভাপতি মোঃ মহিউদ্দিন ভাই এর নাম, সাধারণ সম্পাদক জাহিদ (এইচ.টি.এল) এবং উপদেস্টা আহমেদউল্লাহ (সিনিয়র ম্যানেজার - একাউন্টস) ভাইকে দেওয়া হইছে। ঈমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আহমেদউল্লাহ ভাই, জাহিদ ভাই, মোঃ মহিউদ্দিন ভাই অথবা আমি আর মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বাবু (স্টাফ)। বাবুর কাজ প্রতি ওয়াক্তে আজান দেওয়া।

যদিও মসজিদ কমিটি কয়েকজনের প্রস্তাবকৃত। যখন এই প্রস্তাব করা হয়েছিল তখন তেমন একটা লোক জামাতে নামায পড়তে আসতেন না বা নামায পড়তে আসতেন না। কিন্তু ধীরে ধীরে মুসল্লি সংখ্যা মসজিদে বাড়তে শুরু করল আর আলোচনায় বলা হত অমুক এই। তারাও শ্রবণ করতে লাগলেন এবং এভাবেই যাকে যেই পদবীতে প্রস্তাব করা হয়েছিল সবাই সেই পরিচিত পেতে লাগল। আমাকে তো প্রায়ই অনেকে বলত কি সভাপতি সাহেব নামায পড়তে আসতে দেরী হয় কেন? আমি বার বারই বিব্রত হই এই ভেবে যে আমি তো সামান্য মুসল্লী সভাপতি হবার যোগ্যতা আমার নেই তাও কেন আমাকে সভাপতি নামে ডাকা হয়। উত্তরে তিনি বললেন জনগণ তো সেই নামে আপনাকে জানে।

একনজরে প্রস্তাবকৃত মসজিদ কমিটিঃ (ফেব্রুয়ারী, ২০১১)
সভাপতি মোঃ মামুন চৌধুরী
সহ সভাপতি - মোঃ মহিউদ্দিন
সাধারণ সম্পাদক - মোঃ আবু জাহিদ
উপদেষ্টা - আহমদ উল্লাহ 
ঈমাম – আহমেদ উল্লাহ / জাহিদ / মোঃ মহিউদ্দিন
মুয়াজ্জিন – বাবু
খাদেম – আমিনুল / সিরাজ


এখানে উল্লেখ্য যে অনেকেরই মনে মনে অসন্তোষ থাকতে পারেন এই ভেবে এই ছেলে সভাপতি হয় কি করেন। আপনাদের জ্ঞ্যাতার্থে বলছি আমি সভাপতি নই আমি সাধারণ মুসল্লী। নামাযের স্থান তথা (Prayer Hall) এ নিবেদিত ভাবে কাজ করি বা করতে ভালোবাসি। আর এজন্যই গত নভেম্বরে, ২০১১ তে মসজিদে সবাই আমাকে ধরেন যে কার্পেটের ব্যবস্থা করা হোক যেহেতু মেঝ ঠাণ্ডা এবং এতে নামায পড়তে কষ্ট হয়। আমি শেষে বাধ্য হয়ে জেনারেল ম্যানেজার এবং হেড অব এইচ.আর এর সাথে দেখা করি। তাকে এই বিষয়ে খুলে বলি তিনি বলেন যে, কার্পেট কিনলে ভালো হবে না নামাজের পাটি কিনলে ভালো হবে তা দেখতে হবে কারণ নামাযের কার্পেট একটু ব্যায়বহুল এবং পরিস্কার করাও ঝামেলা। তিনি আমাকে বলেন যে নামাযের স্থানের আকার আয়তন দিতে যে কত বর্গফুট কি কিনতে হবে আমি উনাকে ঐ স্থানের একটা পরিমাপ দিয়ে দেই এবং সেই মোতাবেক উনি কিনে ফেলেন। অবশেষে একটি অস্থায়ী দেওয়াল যা মহিল ও পুরুষ যাতায়াত কে পৃথক করেছে, একটি আলাদা সিলিং ফ্যান লাগানো হয়েছে।
আমাদের উপদেষ্টা জনাব আহমেদ উল্লাহ ভাই প্রস্তাব করেন আমরা যেন যোহরের নামাজের পর ৫/৭ মিনিট বসে একটি করে হাদিস শুনি এতে আমাদেরই অনেক উপকার হবে। উনি আমাদের এই নামাযের স্থানে একটি “ফাজায়েলে আমল” দান করেন। গত জুলাই, ২০১১ থেকে আমরা জোহরেরে নামাযের পর “ফাজায়েলে আমল” থেকে হাদিস শুনে আসছি। রোজার মাসে যেহেতু লাঞ্চ ব্রেক থাকে না তাই রোজার মাসে আমরা এই হাদিস ২০-২৫ মিনিট পর্যন্ত শুনে থাকি।

অনেকেই এইবার সেপ্টেম্বর, ২০১২ তে আমাকে বলে যোহরের নামায যেন ১:১৫ মিনিটে এগিয়ে আনা হয়। এটা পরিবর্তন না করা এটা আমার উপর চাপিয়ে দেন। যদিও আমি এস সাথে সংশ্লিষ্ট না কিন্তু আমাকে তাও চাপানো হয়। এই ও বলা হয় আমি নাকি ইচ্ছা করেই এই সময়টা পরিবর্তন করছি না। আমি বাধ্য হয়ে নিজ উদ্যোগে জরিপ করা শুরু করি। ৩০ জনের মধ্যে একটি জরিপ চালানো হয় যেখানে ১৫ জন রায় দিয়েছেন ১:৩০ মিনিটে যোহরের নামায পড়বার জন্য আবার ১৫ জন রায় দিয়েছেন ১:১৫ মিনিটে যোহরের নামায পড়বার জন্য। আমি উদ্ভুত পরিস্থিতিতে জেনারেল ম্যানেজার এবং হেড অব এইচ.আর কে ঘটনা বলি তিনি শুনে বলেন, নামাজ ১:৩০ মিনিটে পড়া হবে।আমি আর কোনও কথা বাড়ালাম না, কিন্তু যারা চেয়েছিলেন তারাও জানতেন ১:৩০ মিনিট জামাত হবে। আবার হয়তো অকপটে বলছেন আসলে মামুন চায়নি তাই পূর্বের নির্ধারিত সময় জামাত পড়া হচ্ছে।   

আমাদের সবার জন্য দোয়া করবেন যেন আমরা সবাই সময়মত জামাতের সহিত সহী শুদ্ধভাবে নামায আদায় করত পারি তথা মহান আল্লাহ্‌ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি। আমিন।